Re: Genome sequencing in Bangladesh & reality/last mail

বরাবর,


Dr. Sorowar Hossain
Assistant Professor
BRAC University

আপনার ড: আলম বিষয়ক ই-মেইল গুলো বারংবার পড়ার পরে যে বিষয়টা প্রতিবারই মনে হয়েছে সেটা হলো আপনি এ বিষয়ে কোন রকম হোম ওয়ার্ক করা ব্যাতিতই আপনার মনগড়া কথা বার্তা দিয়ে বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞানীকে অপমান করতে চেয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আরও একজন বিজ্ঞানী, বাংলাদেশ সরকার, এবং তারপর সমস্ত বাংলাদেশী বিজ্ঞানী সমাজকেই অপমান করেছেন। এসব গারবেজ সমালোচনা, আপনার দেশপ্রেম সব কিছু ছাপিয়ে যে বিষয়টি বারবার হাইলাইট হয়েছে আপনার ই-মেইলে সেটা আপনার/আপনাদের একান্তই ব্যাক্তিগত নতুন ওয়েব সাইটের ঠিকানা জানিয়ে বিজ্ঞাপন!! এবার আসা যাক আপনার শেষ ই-মেইলে।

"আমার হতাশা মিশ্রিত লেখার ফোকাস ছিল পলিসি মেকার। কথা প্রসঙ্গে দু’জন বিখ্যাত বিজ্ঞানীর নাম এসেছে। তাঁরা দু’জনেই দেশপ্রেমিক ও সন্মানিত। বেতন প্রসংগে মনোজ সাহা উল্লেখ করেছেন। তিনি যে বেতন নেননি এটা তাঁর দেশপ্রেমিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কিন্তু আমি বলতে চেয়েছি পাটের জেনোম সিকুয়েন্স করা হয় বিদেশে। আমাদের দেশে জেনোম সিকুয়েন্স করা হলে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপ হতো(বিস্তারিত- http://en.wikipedia.org/wiki/Jute_genome)"

আশাকরি জনাব মোস্তফা মুকুলের ই-মেইল পড়ার পড়ে আপনার জানা হয়েছে যে আমাদের দেশেও জেনম সিকুয়েন্স করার মত ইনফ্রাস্ট্রাকচার আছে। আমি একটু যোগ করি বিজেআরআই ছাড়াও বাংলাদেশে আপনার আগের কর্মস্থল আইসিডিডিআরবিতেও ছোট আকারের সিকুয়েন্স মেশিন এবং ডাউনস্ট্রিম সিকুয়েন্স এনালাইসিস করার জন্য একঝাক তরুন আছেন। আপনি বারবার টাকার এমাউন্ট নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন এবং মনোজ সাহার রেফারেন্সে আপনি শুধু ড: আলমের বেতনের কথা উল্লেখ করলেন অথচ ৫ বছরের কাজ তারা কম সময়ে করলেন সেটা উল্লেখ করলেন না, কেন? এতসব ইনফ্রাস্ট্রাকচার রেফারেন্সের পরে আমরা কি আপনার কাছ থেকে একটা রিজয়েন্ডার আশা করতে পারি যে আপনি না জেনেশুনে এসব বস্তাপচা গারবেজ লিখেছেন। পরেরবার আশাকরি কিছু লেখার আগে একটু হোমওয়ার্ক করে নিবেন।


"এবার শুধুমাত্র ছত্রাকের সিকুয়েন্সিং করার জন্য বাজেট ছিল ৬৬ কোটি টাকা। এসব জেনোম সিকুয়েন্স থেকে সফলতা পেতে হলে দেশে ডিএনএ রিকম্বিনেন্ট টেকোনোলজির ভাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের থাকতে হবে। আমাদের দেশে উন্নত বিশ্বের (আমেরিকা) উদাহরণ বেমানান, কেননা দেশে বেসিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারই গড়ে উঠেনি। তাহলে কীভাবে আমরা জুট জেনোম বা ছাত্রাকের সিকুয়েন্স থেকে সুবিধা নিতে পারব?"

এ বিষয়ে আপনার ই-মেইল থেকে বার বার টাকার অংকটার কথা ঘুরে ফিরে আসছে। টাকাটা যে অযথাই খরচ হয়েছে সেটা বারবারই আপনি হাইলাইট করতে চেয়েছেন। আমার জানতে ইচ্ছে করছে ৬৬ কোটি টাকার যায়গায় ঠিক কত টাকা হলে আপনি এই ধরণের একটা নেগেটিভ ই-মেইল করতেন না। এই গ্রুপটা ৫ বছরের কাজ কম সময়ে করলেন সেটা একবারের জন্যও উল্লেখ করেননি আপনি। আর ডিএনএ রিকম্বিনেন্ট টেকনোলজির ইনফ্রাস্টা্রাকচার ঠিক কতটুকু ভাল হলে আপনার চলে। আপনি বারবার বলছেন বাংলাদেশে গবেষণার কোন ইনফ্রাস্ট্রাকচারই নেই। কেন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বেসিক কোন গবেষণা হয় না? (আমি এ তিনটা বিশ্ববিদয়ালয়ের নামই বলছি কারন এ তিনটি সম্পর্কেই আমার কিছু ধারণা আছে)। আপনি যদি দয়া করে পাবমেড সার্চ করে দেখেন শুধুমাত্র "ঢাকা বিশ্ববিদয়ালয়ের" নাম দিয়ে তাহলেই বুঝতে পারবেন বেসিক রিসার্চ বাংলাদেশে হয় কিনা হয় না। আর তরাপরে যদি সময় হয় তাহলে বাকৃবি এবং রাবি দিয়ে সার্চ করে দেখবেন। ঢাবির সার্চ রেসাল্ট হলো ১০৩৩ টা পাবলিকেশনস!! রাবির ১১৯টা আর বাকৃবির ১৯২ টা। এর মধ্যে যদি ২৫% ও ধরি বেসিক রিসার্চ মানে গবেষণাগারের ফলাফল তাহলেও দাড়ায় প্রায় ২৫০ পাবলিকেশনস ঢাবির আর রাবি আর বাকৃবির ২৫ এবং ৫০ টা পাবলিকেশনস,যথাক্রমে। এখন ঢাবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের জার্নালে প্রতিবছর যদি কম করে হলেও ১০ টা পাবলিকেশনস ধরি (সংখ্যাটা আরও বেশি হবে নি:সন্দেহে) তাহলে প্রাণ-রসায়ন, বোটানি, জুলজি, সয়েল সাইন্স, ফার্মেসি মোট এই পাচটি ডিপার্টমেন্ট থেকে ধরলাম ৫০ টা গবেষণা পত্র বের হয়, তাহলে শুধু দেশী জার্নালেই প্রতিবছর বায়লোজিকাল সাইন্সে এই পরিমান গবেষণা হয়। এখন আপনি আমাকে বলেন দেশ-বিদেশ মিলিয়ে যদি একবছরে ১০০ টা পাবলিকেশনস শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিকাল ফ্যাকাল্টি থেকেই বের হয় তাহলে পুরা দেশে বায়োলজি আর নন-বায়োলজিকাল মিলিয়ে ধরলাম কম করে হলেও ৫০০ টা গবেষণা পত্র বের হয়। তাহলে এই গবেষণার জন্য কোথা থেকে টাকাটা আসে? সেটা নিশ্চই বাংলাদেশ সরকার বাদে অন্য কোন দেশের সরকার দিয়ে যায় না, তাই না। এখন আপনি ঠোট উল্টে বলতেই পারেন আরে "বাংলাদেশে কোন গবেষণ-টবেষণা হয় নাকি আমরা কইরা আসছি না"। আপনার জ্ঞাতার্থে বলতে চাই ৯০ এর দশকেই ঢাবির মাস্টার্সের গবেষণার ফলাফল ওরাল এবং পোস্টার ফরমেটে দেশের বাইরে (ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, জাপান) গিয়ে ছেলে-মেয়েরা প্রেজেন্ট করে আসছে। আরও টগবগে উদাহরণ চান। এই বছরেরই মে মাসে ঢাবির এক ছাত্র আমেরিকায় তার গবেষণার ফলাফল দুই ফরমেটেই প্রজেন্ট করে গেছেন (আপনিও সেটা জানেন)। এখন আমি বা আপনি আমাদের সময়ে গবেষণা ঠিক-ঠাক মত করি নাই সেই দোষত আপনি সরকারের উপরে চাপাতে পারেন না। আমি-আপনি ফাঁকিবাজি করব আর বলবো "আগে ইনফ্রাস্ট্রাকচার করে দাও তারপরে দেখ আমি কি করি" সেইটা বলে কি পার পাওয়া যাবে।

"তাহলে কীভাবে আমরা জুট জেনোম বা ছাত্রাকের সিকুয়েন্স থেকে সুবিধা নিতে পারব?"


আপনিতো পত্রিকা পড়েই এই সংবাদটা পেয়েছেন। অবশ্য মনে হয় না আপনি হেডিং বাদে পুরো সংবাদটা পড়েছেন। এটার উত্তরতো ওখানেই দেয়া ছিল কিছু "পেটেন্টের" জন্য এপ্লাই করা হয়েছে। এখন নিশ্চই আপনাকে এটা বুঝানোর দরকার নাই পেটেন্ট করে কিভাবে লাভবান হওয়া যায়?। এখন যদি আপনার বর্তমান ইন্সটিটউট ব্র্যাকের পেটেন্ট করা HB 09, Jagoran, Shakti, Shakti 2 হাইব্রিড ধান আমি মফিজ-১/২/৩/৪ নামে বাজারে ছাড়ি তাহলে কি ব্র্যাক আমাকে কোলে তুলে নাচবে নাকি এ্যাপলের মত বিলিয়ন ডলার মামলা দিয়ে আমার বারোটা বাজাবে?


"এ থেকে সুবিধা নিতে হলে অবশ্যই দেশের বেসিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তুলতে বিশেষ নজর দিতে হবে। এ প্রসংগেই উদাহরণ হিসেবে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডভান্স বায়োটেকনোলজি ল্যাব’র (Advanced Biotechnology lab)কথা তুলে ধরেছি। সাধারনভাবে দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়েই ডিএনএ নিয়ে কাজ করার মত পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। প্রোটিন নিয়ে কাজ করার কথা বাদ-ই দিলাম। Western blot এর সম্পূর্ণ সেট কোন দেশের কোন ল্যাবে আছে কিনা তা অনেক খোঁজাখুজি করে পায়নি। দু-একটি ল্যাবে থাকলেও তা প্রাগঐতিহাসিকে কালের সিস্টেম ব্যবহার করে করা হয়। কেউ জেনে থাকলে দয়া করে জানাবেন।"


এইখানে আপনে চরম মিথ্যাচার করেছেন এবং জেনেশুনে তথ্য গোপন করেছেন। এটা প্রয়োজনীয় না যে সবাইকেই সব কিছু জানতে হবে কিন্তু কিছু কথা পাবলিকলি বলার আগে জানার ইচ্ছাটা থাকতে হবে আর সাথে সাথে ব্লগ আর ফেসবুকের সাথে গ্রুপ-ইমেল এর পার্থক্যটা বুঝতে হবে। আপনি আগে গুগল করে দেখেন বাংলাদেশে কোথাও ডিএনএ/প্রোটিন নিয়ে কাজ হয় কিনা তারপরে লিখেন। এত এত হাইব্রিড ধান, উন্নত প্রজাতির শাক-সবজি, ফল-মূল, মাছ, কি সব তাহলে আকাশ থেকে টুপ করে পরে বাংলাদেশে আসছে? আর প্রোটিন নিয়ে কাজ হয় কিনা সেটাও গুগল করে দেখে নিবেন। আর Western blot নিয়ে আপনি জেনেশুনে মিথ্যা বলছেন। ১৯৯৭-৯৯ সাল পর্যন্ত আমি নিজের হাতে ঢাবিতে শুধু অণুজীব বিজ্ঞান না প্রাণ-রসায়ন বিভাগেও Western blot করেছি। শুধু তাই নয় আমার আগেও আমাদের সিনিয়র ভাই-আপারা করেছেন এবং আপনাদের ব্যাচের ছেলে-মেয়েরাও করেছেন। আপনি যদি নাও করে থাকেন তাহলে আপনাদের প্র্যাকটিকাল ক্লাশে একবারের জন্য হলেও Western blot করানো হয়েছে। আপনি সে সময় কি নিয়ে ব্যাস্ত ছিলেন সেটা আমি বলতে পারবো না তবে সেই সময়ও Western blot ছিল এখনও আছে। আর প্রাগৈতিহাসিক কালের সিস্টেম বলতে কি বোঝাতে চাচ্ছেন, আমরা সেসময় হাত-পা দিয়ে টিপে টিপে ব্লটিং পেপার চাপা দিয়ে জেল থেকে প্রোটিন ট্রান্সফার করতাম মেমব্রনে আর এখন পাওয়ার সাপ্লাইয়ের মাধ্যমে প্রোটিন ট্রান্সফার করা হয়। জ্বী-না জনাব সেসময়ও আমরা Western blot পাওয়ার সাপ্লাই দিয়েই "ওয়েট ট্রান্সফার" মেথডে করতাম আর ২০০৯ সালে যখন আমি ডিপার্টমেন্টে গিয়েছিলাম সেসময় সেমি-ড্রাই ট্রান্সফার এপারেটাস দেখে এসেছি। এই দুই মেথড ছাড়া Western সাহেব আর নতুন কি আবিস্কার করেছেন আমার জানা নেই। আপনার জানা থাকলে জানাতে পারেন। এখন আপনি যদি ২০১২ মডেলের অটোমেটেড এপারেটাসের কথা বলে ওয়েট আর সেমি-ড্রাই মেথডকে "প্রাগৈতিহাসিক" বলতে চান সেক্ষেত্রে আমি বলবো "গ্রো আপ ম্যান!!"। আপনি সরকার এবং ড: আলমকে অপমান করতে যেয়ে আমরা যারা লিমিটেড রিসোর্স নিয়ে সেসময় এবং নতুন প্রজন্ম যারা এখন গবেষণা করে যাচ্ছেন তাদের সবাইকেই অপমান করছেন সেটা কি আপনি বুঝতে পারছেন। আপনার কি মনে হয় না আপনার সবার কাছে দু:খ প্রকাশ করে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ?


"যেখানে বেসিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে উঠেনি সেখানে পাঁচ বছরের টাইমফ্রেম বেঁধে দিয়ে পাটের আশাতীত ফলন বাড়ানোর কথা ফলাও করে প্রচার করা হয়। স্বপ্ন থাকতে হবে, কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবতা বিবর্জিত হলে সেটা স্বপ্নই থেকে যায়। ফলে সাধারণ মানুষ হয় আশাহত। কথা প্রসঙ্গে বলা যায়- ডানা ও গোঁথিয়া কাপ ফুটবলে বাংলাদেশের ‘বিশ্বজয়’ এর কথা। ইউরোপ-ল্যাটিন আমেরিকার সবদেশকে আমাদের টিম বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছিল। সেসময় এতই আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম যে মনে হচ্ছিল আমরা কয়েক বছরের মধ্যে হয়ত বিশ্বকাপে যাবো! কিন্তু করুণ বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশে এখন আর ফুটবল তেমন খেলা হয় না। আগের মত আবাহনী-মোহামেডান ক্রেজ নেই! "



আপনি একজন বেসিক রিসার্চার হয়ে এধরণের কথা লিখতে পারেন সেটা ভাবতেই আমার কষ্ট হচ্ছে। আপনি যখন কোন প্রজেক্ট প্রপোজাল ফান্ডিং বা রিসার্চের এর জন্য জমা দেন সেখানে কি কোন টাইম ফ্রেম দেন নাকি বলেন টাইম ইনফিনিটি। আপনি হয়ত বাঘা গবেষক আপনি চিন্তা করলেন পিসিআর হও আর সেটা হয়ে গেল। একটা নতুন পিসিআর অপটিমাইজ করতে বা ৫০০ বিপি সিকুয়েন্স এনালাইজ করতে আপনার হয়ত সময় লাগে না কিন্তু অনেকেরই লাগে এবং লাগবে এটাই বাস্তবতা। আপনার এই লেখা বাংলাদেশের লোকাল পত্রিকায় ছাপা হলে হয়ত জনগন আরও একটা হরতাল পেত কিন্তু সাইন্টিফিক কমুনিটিতে এটা কোন প্রভাব ফেলবে না কেন জানেন? বিখ্যাত/আলোচিত হবার দুইটা পদ্ধতি আছে: ১) কষ্ট করে বিখ্যাত হওয়া; ২) কোন বিখ্যাত/আালোচিত ব্যাক্তিকে নিয়ে সমালোচনা করে সাময়িক আলোচনায় থাকা। আপনার ভুল ইনফরমেশনের গারবেজ সমালোচনা আপনাকে সরাসরি ২ নম্বর ক্যাটাগরিতেই ফেলবে। এই ইস্যু নিয়া টানাটনির আপনার উদ্দেশ্যটা কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারি কিন্তু সেটা এখানে আলোচনা না করাই ভাল। শুধু একটা ছোট ইনফরমেশন দিয়ে রাখি। নিজস্ব ওয়েবসাইট বিজ্ঞাপনের জন্য "গুগল এডওয়ার্ড" ব্যবহার করে দেখতে পারেন বেশ ভাল সার্ভিস সেজন্য ড: আলম বা ড: ফারুকের নাম ভাঙ্গিয়ে আপনার/আপনাদের ব্যাক্তিগত সাইটে হয়ত আর ভিসিটর নিতে হবে না।


শেষ করি একটা প্রশ্ন দিয়ে। আপনি সুযোগ পেলেই বলে থাকেন আপনি ট্যাক পলিমারেজ কন্স্ট্রাক্ট দিতে চেয়েছিলেন যাতে বাংলাদেশের সবাই ঘরে বসেই ট্যাক পলিমারেজ তৈরী করতে পারে। আপনার কি মনে হয় না যারা পিসিআর মেশিন কিনতে পারে হাজার ডলার দিয়ে তারা কয়েকশো ডলার দিয়ে ট্যাক পলিমারেজও কিনতে পারেন? আর এটা যদি মায়ের হাতের বানানো মোয়াই হয় তাহলে কেন সবাই (বাংলাদেশ ছাড়া) তাকারা ইনভিট্রোজেন বাদ দিয়ে ইন হাউস ট্যাক পলিমারেস দিয়ে কাজ করছেন না? কিন্তু সেই ১৯৯০ বা ১৯৯৩ এর পেপরেইতো Home-made Taq Polymerase Purification এর প্রটোকল দেয়া আছে। কোন কিন্তু কি আছে এর পেছনে? অযথাই জিএমএ, ডুমা বা ঢাবির শিক্ষকদের দোষারোপ না করে আপনি আপনার সুবিধামত যে কোন সাইটে বা গ্রুপে ঘরে বসে ট্যাক পলিমারেজ তৈরী করার জন্য টাইম ফ্রেম, প্রপোজাল এবং বাজেট কত সেটা শেয়ার করুন। তারপর যদি দেখা যায় সেটা "কস্ট এফেক্টিভ" তাহলে কেন সেটা কেউ ব্যবহার করবেন না। আর যদি সেটা "ব্র্যাক ট্যাক" নামে বাজারজাত করে বাংলাদেশ বৈদিশিক মুদ্রা আয় করতে পারে তাহলে আপনাকেও আর কষ্ট করে ড: আলম এন্ড গোং যে গবেষণার নামে দেশের টাকা বিদেশ পাচার করছেন সেটা নিয়ে বড় বড় ই-মেইল করে জনসচেনতা বাড়াতে হবে না।


ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন। বাংলাদেশীদের মধ্যে আপনি ছাড়াও আরও অনেকের একের অধিক পিয়ার রিভিউ পেপার আছে আরও অনেক পিএইচডি করা গেবষক আছেন সেটা বুঝতে চেষ্টা করুন। তাই তারাও জানেন সেরকম পেপার লেখার আগে অনেক অনেক রেফারেন্স আর ক্রস রেফারেন্স চেক করতে হয়। তাই অনুরোধ থাকবে আপনার প্রতি, পাবলিক ফোরম/ব্লগে যা খুশি তাই লিখুন কিন্তু গ্রুপ ই-মেইলে কিছু লেখার আগে একটু হোম ওয়ার্ক করলে আপনার এবং আমাদের সবারই উপকার হয়।

ধন্যবাদ।




ইয়োসেমিতে (Yosemite National Park) একদিন

আমেরিকায় বেশ কিছু জাতীয় উদ্যান আছে। তার মধ্যে ইয়োসেমিতে ন্যাশনাল পার্ক একটি (http://www.nps.gov/yose/index.htm)। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত এই পার্কটি এমনিতেই বেশ বিখ্যাত তার উপরে এই পার্ক নিয়ে রিসেন্টলি বেশ হৈ চৈ চলছে হান্টা ভাইরাসেরর কল্যানে (http://news.yahoo.com/u-officials-sound-worldwide-alert-yosemite-hantavirus-risk-013723439.html)। যেই সময়ে এই আউটব্রেকটা হয়েছিল (জুন ২০১২) আমরাও মোটামুটি সেই সময়েই গিয়েছিলাম একদিনের জন্য ওখানে। যদিও একদিন কিছুই না এই ভূ-স্বর্গের জন্য তবু যেটুকু সময় আমরা ছিলাম সেখানে তাতেই মনে এক ধরণের প্রশান্তি নিয়ে ফিরেছি।


ইয়োসেমিতে পার্ক প্রবেশ দ্বার (সানফ্রানসিসকো থেকে আসলে)। আশেপাশে টিকেট বুথ না দেখে খুশিই হইছিলাম। অবশ্য সেই খুশি বেশিক্ষণ টিকে নাই।




রাস্তার পাশেই কিছু সিনিক ভিউতে গাড়ী থামানোর যায়গা আছে। সেখানে নেমে আপনি প্রকৃতিকে উপভোগ করতে পারবেন এবং ছবিও তুলতে পারবেন। সেখানে থেমেই তোলা। এটা একটা ক্ষরস্রোতা পাহাড়ী নদী।


সিনিক ভিউয়ের আর নদীর বৃতান্ত পরের ছবি দুটোতে আছে।


এই হইল টিকেট বা এডমিশন পাস মূল্য প্রাইভেট কার ২০ আমেরিকান টাকা (গাড়ীতে যত মাথাই থাক না কেন) আর হেটে বা সাইকেলে গেলে মাথাপিছু ১০ টাকা। ভ্যান/আরভিতে কত মনে নাই। (এই মূল্য ২০১২ সালের জুনের জন্য প্রযোজ্য)


এই রাস্তার নাক বরাবর পাহাড় (নাম জানি না) আর বামে তাকাইলে বিখ্যাত ইয়োসেমিতে ফলস।



এটা হল ইয়োসেমিতে ভিলেজের প্রবেশ পথ। আমরা এই ভিলেজেই নোঙর ফেলে (গাড়ী পার্ক করে) ফ্রি বাস রাইড আর হেটে হেটে ঘুরে দেখেছি এলাকাটা। এখানে এরকম বেশ কিছু ভিলেজ আছে তার মধ্যে একটা হলো কারি ভিলেজ (যেখানে হান্টা ভাইরাসের কাহিনীর উৎপত্তি হয়েছিল)। এসব ভিলেজের বিভিন্ন ভাগ আছে যেমন, কোন ভিলেজে আপনি আরভি (http://en.wikipedia.org/wiki/Recreational_vehicle) নিয়ে ক্যাম্পিং করতে পারবেন, কোথাও শুধু আপনার পার্সোনাল টেন্ট নিয়ে আবার কোথাওবা ভিলেজেরই টেন্ট বা কেবিন ভাড়া করে থাকতে পারবেন ইত‌্যাদি।


অনেকেই ভাবতে পারেন ডাকঘরের ছবি কেন দিচ্ছি। দিচ্ছি জিপকোডের জন্য (যারা ভবিষ্যতে গাড়ী নিয়ে যাবেন জিপিএস ব্যবহার করে) কারনটা হল জিপিএস এ ইয়োসেমিতের কোন ঠিকানা পাওয়া খুব দুস্কর আর এলাকাটা ঠিক জিপিএস বান্ধব না। (বিস্তারিত প্রথম লিংকে পাবেন এ ব্যাপারে)।



এবার একটু ইতিহাস জানা যাক।



এক কাঠুরের কল্যানেই আজকের ইয়োসেমিতে এত বিখ্যাত!!



ট্রেইল ধরে হেটে চলেছি আমরা ফলসের দিকে


জুম করে তোলা ফলস



অবশেষে ফলসের দোরগোড়ায় আমরা। এটাকে বলে লোয়ার ফলস



অবশ্য পাথর ডিঙ্গিয়ে আরও কাছে যাইনি আমরা



যদিও লোকজন ফলসের যত কাছে যাওয়া যায় যাচ্ছিল। বেশ পিচ্ছিল এবং সেজন্য প্রতি বছরই দু-একজন পটল তোলেন। তবে বেশীর ভাগ পটল তোলেন আপার ফলস থেকে নীচে দেখার সময়!!



আপার ফলস

পাখির চোখে ফলসের 3D মডেল



ফলসের ম্যাপ (2D)



লোয়ার এবং আপার ফলসের দিক নির্দেশনা



ছবিতে ফলসের জীবন বৃতান্ত!!





যদিও এই ট্যুরে প্রথমে ইয়োসেমিতে লিস্টে ছিল না, কিন্তু স্কুবা ডাইভিং করতে যেয়ে সদ্য প্রয়াত স্কুল বন্ধু নাফিজের উৎসাহেই মূলত এখানে যাওয়া। তাই তার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং এই ব্লগটা তাকে উৎসর্গ করছি।